বিশেষ স্বাস্থ্য ও রাজনীতি প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
সিঙ্গাপুর/ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ দিন নিউরো-আইসিইউ ও সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। দ্রুত তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জটিল এক মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তুলনা: বাংলাদেশের সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের সংকটাপন্ন অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ।
অতীতের স্মৃতি: ১৯৯০-এর দশকে বা পরবর্তী সময়েও আমরা দেখেছি, দেশের বড় মাপের রাজনীতিকরা (যেমন আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বা সাইফুর রহমান) জটিল অসুস্থতায় সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: তবে বর্তমান সরকারের আমলের এই চিকিৎসার বিশেষত্ব হলো—মির্জা আব্বাস কেবল একজন দলীয় নেতা নন, তিনি বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত এমপি (ঢাকা-৮) এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তাঁর অসুস্থতা সরকারি ও বিরোধী—উভয় মহলেই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাস এখন সীমিতভাবে সবার সাথে কথা বলতে পারছেন। অন্যদিকে, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের জটিল অস্ত্রোপচারের পর এখন কেবিনেই তাঁকে উন্নত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হবে।
নজরুল ইসলাম খানের চিকিৎসা: মির্জা আব্বাসের পাশাপাশি বিএনপির আরেক হেভিওয়েট নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানও গত মঙ্গলবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন। তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (NUH) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সাথে দলের শীর্ষ দুই নীতিনির্ধারকের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন দেশে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে, তখন মির্জা আব্বাসের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকের উপস্থিতি সংসদে এবং রাজপথে ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারত।
| তারিখ | ঘটনা | স্থান |
| ১১ মার্চ | ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারানো | ঢাকা (বাসা) |
| ১১-১৪ মার্চ | মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার ও পর্যবেক্ষণ | এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা |
| ১৫ মার্চ | এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর স্থানান্তর | সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল |
| ১৫ মার্চ - ৩ এপ্রিল | ১৯ দিন সিসিইউ/এনআইসিইউ-তে অবস্থান | সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল |
| ৩ এপ্রিল (ভোর) | কেবিনে স্থানান্তর ও কথা বলা শুরু | সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল |
মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁর নির্বাচনি এলাকা এবং দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছিল। আজ সিসিইউ থেকে কেবিনে আসার খবরে সারা দেশের বিএনপি কার্যালয়গুলোতে দোয়া মাহফিলের খবর পাওয়া গেছে।
১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা আব্বাস একজন পোড়খাওয়া নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর এই লড়াকু মনোভাব তাঁকে আবারও দ্রুত সুস্থ করে তুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তাঁর অনুসারীরা। সিঙ্গাপুরে উন্নত ফিজিওথেরাপি শেষে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন, এটাই এখন সবার কাম্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |